Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

বন্দি মোটিভেশন কার্যক্রম ও মন্তব্য

বন্দি গ্রহণ বন্দি অধিকার সম্পর্কিত:

স্থানীয়ভাবে  এখানে  বন্দি  গ্রহণে  কিছুটা ব্যতিক্রমী কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সিনিয়র জেল সুপার তাঁর কক্ষে নবাগত বন্দিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং বন্দিদের কুশলাদি জিজ্ঞাসা করেন। বন্দিদের গ্রহণ ও ভর্তিকালে তাদের সাথে পবিত্র সংবিধান স্বীকৃত মানবিক আচরণ নিশ্চিতকরণে এ প্রশাসন আন্তরিক। তাদের অধিকার ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে ধারণা দিয়ে কারাগার সম্পর্কে ভীতি দূর করে তাদের উদ্দীপিত করা হয়। সন্মানের সাথে তাদের গ্রহণ ও তল্লাসী করা হয়।ওয়ার্ডে ঢুকানোর আগে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হওয়ার সুযোগ নিশ্চিতকরা হয়। পরদিন কেস টেবিলে তাদের প্রতি যথোচিত আচরণ করা হয়। কারাগারের নিয়মকানুন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যনীতি সংরক্ষণে এ সময় বিস্তারিত ধারণা দানকরত বন্দি-বান্ধব পরিবেশের আবহ তৈরী করা হয়। কারাভ্যন্তরে ক্যান্টিন থাকলেও ক্যান্টিন থেকে পারত পক্ষে কোন জিনিস না কিনতে তথা মিতব্যয়ী হতে পরামর্শ দেওয়া হয়। বন্দিদের প্রাপ্য অধিকার/মৌলিক অধিকার যাতে কোনোভাবেই লংঘিত না হয় সে বিষয়েও গুরুত্বের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

বন্দি প্রশিক্ষণ:

সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের সাজা ভোগ শেষে সমাজে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কারাগার সমূহে বিভিন্ন আত্নকর্মসংস্থান / বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ চালু আছে। এখানেও এ ব্যবস্থা সমন্নোত আছে, দু’শতাধিক বন্দি তাঁত, মোড়া তৈরী, কার্পেন্ট্রি, ফার্নিচার তৈরী, হেয়ার ড্রেসিং, দর্জি, বাঁশ ও বেতের কাজ, বিষমুক্ত সবজি ও ফসলাদি চাষ, মৎস্য চাষ ও ডেইরী ফার্মের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। বিচারাধীন বন্দিদের অলস সময়কে তাদের ইচ্ছা ও আগ্রহ অনুকে এসব কাজে সম্পৃক্ত করতে ও আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

 

বিনোদনস্বাস্থ্যরক্ষা:

বন্দিদের  বিনোদন  ও স্বাস্থ্যরক্ষার অংশ হিসেবে টেলিভিশনের অতিরিক্ত নিত্যব্যয়াম অনুশীলনের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে এখানে রুচিশীল গান-বাজনা, নাটক, যাত্রা ইত্যাদি আয়োজন করা হয়।অসুস্থ বন্দিদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে ও অসুস্থদের ওপর এখানে অব্যাহত নজরদারি নিশ্চিত করা হয়। ভর্তির পরপরই বাহ্যিক উপসর্গ ও রক্তচাপ পরীক্ষান্তে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। উচ্চ রক্ত চাপাক্রান্ত রোগীদের নাম বিশেষ একটি রেজিষ্টারে অন্তর্ভুক্ত করত তাদের নিয়মিত মনিটর করা হয়। অন্যান্য কারাগারের তুলনায় এটিও ব্যতিক্রমী বলে আমরা মনে করি। বন্দীদের মাঝে আমরা কতগুলো সাধারণ বিষয়েও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সদা তৎপর, যেমন-

=>       খাবারের আগে ও ল্যাট্টিন ব্যবহারের পর হাত ধোয়া;

=>       তরিতরকারী কাটার পূর্বে হাত ধৌত করা;

=>       পরিমানমত পানি পান করা;

=>       বেশি করে ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া;

=>       সকালে খাবার পরে এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা;

=>       লবণ কম খাওয়া;

=>       সম্পৃক্ত চর্বি জাতীয় জিনিস কম খাওয়া;

=>       নিয়মিত ব্যায়াম করা / অলস সময় না কাটানো;

=>       বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করে হতাশাকে জয় করা;

=>       নিজরি সাথে স্ব স্ব ধর্মপালন;

=>       বাস্তবতাকে সহজভাবে গ্রহণ করা ও সদা প্রফুল্ল থাকা;

=>       জীবনে মিতব্যয়ী ও মিতচারী হওয়া;

=>       ধূমপান না করা;

=>       প্রত্যাশিত শারীরিক ওজন বজায় রাখা;

=>       স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে দেশ ও জাতি গঠনে সহায়ক হওয়া;

=>       একটি বাড়ি একটি খামার গঠন, ইত্যাদি।

এই কাজ গুলো আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ হলেও দেশ ও জাতি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যক্তির উন্নতি, দেশের সমৃদ্ধি।